Jobanসুস্বাস্থ্য আর ত্বকের যত্নে রসুন

সুস্বাস্থ্য আর ত্বকের যত্নে রসুন

ছোটোবেলায় দাদিমাকে দেখতাম খাওয়ার পাতে রসুন খেতেন। নাক সিটকে বলতাম। কি সব খাও তুমি। তখন দাদিমা মাথার চুল ঘেটে বলতেন, ওরে তুইও খেয়ে দ্যাখ কোনওদিন অসুস্থ হবি না আর দিন দিন সুন্দর হয়ে উঠবি। অবাক হয়ে বলতাম। কি এমন আছে যে খেতে হবে। তখন তো পাত্তা দিই নি ব্যপারটা। কিন্তু এখন বুঝি। সত্যি রোজ যদি এক কোয়া করে রসুন খালি পেটে খাওয়া যায়, তাহলে চমৎকার তো ঘটবেই হয়ে ওঠা যাবে সুন্দর স্বাস্থ্য আর ত্বকের অধিকারী। তাহলে আসুন জেনে নিই রসুনের কিছু প্রাকৃতিক ঔষুধী গুণ।

ত্বকের পরিচর্যায় রসুন

অ্যাকনে ও পিম্পল : রসুনে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ফুসকুড়ি, ব্রণ কমাতে সাহায্য করে। একটা রসুনের কোয়া নিয়ে সেটি থেতো করে নিয়ে ব্রণতে লাগিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। ফল পাবেন খুব তাড়াতাড়ি।

আঁচিল : ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন রোধ করা ছাড়াও আঁচিল দূর করতে রসুন ভীষণভাবে উপকারি। এক্ষেত্রে রসুন কোয়া রোজ লাগাতে হবে।

ব্ল্যাকহেডস : ত্বকের অতিরিক্ত তৈলক্ষরণ থেকে ব্ল্যাকহেডস হয়। রসুনে থাকা পলিফেনল ত্বকের এই অতিরিক্ত তৈলক্ষরণ কমিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে একটা রসুনের কোয়া নিয়ে তার সঙ্গে টম্যাটো পেস্ট বানিয়ে নিন। এটিকে ফেস মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করুন। ফল পাবেন দ্রুত।

অ্যান্টি এজিং : রোজকার জীবনে রসুনের ব্যবহার আপনার বয়স কমিয়ে দিতে পারে। হ্যাঁ বিশ্বাস হচ্ছে নাতো, এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের রেডিকেল তৈরি করে ত্বককে করে তোলে প্রাণবন্ত আর ঝলমলে। রসুনের কোয়া পেস্ট করে তাতে মধু দিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর হালকা গরম জলে ধুয়ে ফেলুন।

স্ট্রেচ মার্ক : হ্যাঁ এটি আর একটি কারণ, যেটা রোধ করতে রসুন ভীষণভাবে বিশারদ। রসুনে থাকা সালফার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে স্ট্রেচ মার্ক দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বকের ইলাসটিসিটি বাড়িয়ে দেয়। রসুন তেল হালকা গরম করে লাগান রোজ আর তফাৎ দেখুন কিছুদিনেই।

রসুন

শরীর সুস্থ রাখতে রসুন

ব্লাড সুগার রোধ : রসুন রক্তে সুগার লেভেল কমায়। রসুনে থাকা কিছু যৌগ শরীরের ইনসুলিন লেভেল ঠিক রাখতে সাহায্য করে। যা ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে। শুধু রোজকার রুটিনে এক কোয়া রসুন খান।

হাইপারটেনশন কমাতে : এটা পরীক্ষণীয় যে, রসুন হাইপারটেনসন আর ব্লাড প্রেসার কমাতে সাহায্য করে। তাই খাবার পাতে অবশ্যই রাখুন রসুন। স্ট্রেস আর হাই বিপি লেভেল কমতে বাধ্য।

ওজন কমাতে : শরীরে অতিরিক্ত চর্বি কমানোর জন্যে রসুন খুব উপকারি। রসুনে থাকা যৌগ খাওয়া কমাতে সাহায্য করে। শরীরের মেটাবলিজম পাওয়ার বাড়িয়ে তোলার সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত ক্যালরি পুড়িয়ে শরীর রাখে তরতাজা। তাই প্রতিদিন সকালে একটা রসুন কোয়া বদলে দিতে পারে আপনার জীবনের দিক।

ঠাণ্ডা লাগার ধাত সারাতে : শীতের সময় শরীরের ইমিউনিটি পাওয়ার কমে যায়। কারো কারো ঠাণ্ডা লাগার ধাত এত প্রবল থাকে যে কিছুতেই সারতে চায় না। রসুনে থাকা অ্যান্টিব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ভাইরাল উপাদান ইমিউনিটি পাওয়ার বাড়াতে সাহায্য করে। ইনফেকশন এবং ফ্লু হওয়া থেকে আটকায়।

ক্যান্সার আটকাতে : কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে যে। যারা রোজ রসুন খায় তাদের রোজকার ডায়েটে। তাদের হার্টের রোগ এবং ক্যান্সার-এর আশঙ্কা কম। রসুনে থাকা সালফার প্রাকৃতিকভাবে রোগ প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

চুলের পরিচর্যায় রসুন

চুলের দৈর্ঘ্য বাড়াতে : রসুনে থাকা অ্যালিকিন ব্লাড সার্কুলেশন বাড়িয়ে দেয় এবং চুলের দৈর্ঘ্য বাড়াতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের রুটিনে রসুন চুলকে করে তোলে লম্বা আর সুন্দর।

খুসকি প্রতিরোধে : শুষ্ক এবং খুসকিপ্রবণ স্কাল্পের জন্যে রসুন ভীষণ উপকারি। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিফাঙাল উপাদান খুসকি তাড়াতে সাহায্য করে। কয়েকটা রসুনের কোয়া নিয়ে সেদ্ধ করে নিন জলে। এরপর ঠাণ্ডা হতে দিন। এই জল ব্যবহার করুন সপ্তাহে তিনবার আর দেখুন এর অসাধারণ ফলাফল।

অমসৃণ চুল : রসুন স্বাস্থ্যের জন্য যেমন ভালো। সেরকম চুলের সুস্থতা বজায় রাখতেও এর জুড়ি মেলা ভার। চুলের স্বাভাবিকত্ব বজায় রাখতে দু থেকে তিনটে রসুনের কোয়া নিয়ে থেঁতো করুন। তারপর চুলে লাগিয়ে নিন। আধ ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করে নিন। চুল হয়ে উঠবে রেশমের মতো মোলায়েম।

চুল পড়া রোধ করতে : স্ক্যাল্প থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করতে রসুন খুব ভাল উপাদান। অলিভ অয়েলে রসুন কোয়া একদিন ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সপ্তাহে একদিন মাসাজ করুন স্ক্যাল্পে। চুল পড়া কমবে।

ধূসর চুল রুখতে : ধূসর চুল কমানোর জন্যে ব্যবহার করতে পারেন রসুন। নারকেল তেলে দু-তিনটে রসুন কোয়া ফেলে ফোটান। তারপর ঠাণ্ডা করে মাথায় মাসাজ করুন। সারারাত রেখে সকালে ধুয়ে ফেলুন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে। সপ্তাহে একদিন করুন আর তফাৎ দেখুন।

তাহলে, এই তো গেল নাক সিটকোনো রসুনের গুনাগুনের কথা। জীবনে চমক আনতে তাহলে ব্যবহার করে ফেলুন। আর বহিরঙ্গের সৌন্দর্যের মতো অন্দরের সৌন্দর্যও বজায় রাখুন।