Jobanমাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কত টাকায় খায়?

মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কত টাকায় খায়?

গত বছর কোটা আন্দোলন নিয়ে বক্তব্য দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ঠিক কত টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হলের খাবার খায়। আর মাত্র একদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-ছাত্র সম্মেলন কেন্দ্রে ‘মাত্র ১০ টাকায়’ এক কাপ চা, একটা সিঙ্গাড়া, একটা সমুচা ও একটা চপ পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর। কিন্তু আমাদের অনেকেরই জানা নেই, মাদ্রাসাগুলোতে ঠিক কত খরচে খাবার পাওয়া যায়?

বিভিন্ন মাদ্রাসায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায় সেখানে মাত্র ১৪ টাকায় একজন শিক্ষার্থীর রোজ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এই টাকায় একবেলা নির্ধারিত ডাল-ভাতের সাথে শুটকির তরকারি, ছোটমাছ, মাংস কিংবা ডিম জাতীয় কিছু না কিছু থাকে। বাংলাদেশের মাদ্রাসার অবস্থানভেদে কিছুটা কম-বেশি হলেও অধিকাংশ মাদ্রাসায় এরকমই কম টাকায় মেলে ছাত্রদের খাবার।

উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় কওমি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের দুপুরের খাবারের খরচ বাংলাদেশি টাকায় ১৮ টাকা এবং রাতের খাবার ২৩ টাকা। এই খাবারে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় আমিষের চাহিদা মেটানোর মতো মাংস থাকে। দেয়া হয় মহিষের মাংস। এই স্বল্প খরচের পরও দেওবন্দ চেষ্টা করে তার ছাত্রদের বিনামূল্যে খাদ্য সরাবরাহ করার। এছাড়াও, একটা বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে মাসিক স্টাইপেন্ড দিয়ে থাকে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে যে সকল মাদ্রাসা শহরাঞ্চলে অবস্থিত সেখানে বহু ছাত্রই নিজস্ব অর্থায়নে পড়ে থাকে। তাদের খাবারের মূল্যও খুবই কম। রাজধানী ঢাকার মিরপুরে জামেউল উল মাদ্রাসায় দৈনিক ৬০ টাকা দিয়ে ছাত্ররা খেতে পারে। সকালে খিঁচুড়ি ও বাকি দুইবেলা ভাতের জন্য এই খরচ। প্রতিদিনই মাছ অথবা মাংস থাকে। ওই মাদ্রাসার ছাত্রদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহে কম হলেও তিনদিন গরু কিংবা খাসির মাংস দেয়া হয়।

মাদ্রাসার খাবারে কোন রকম অভিযোগ থাকেনা। মোটা চালের ভাত কিংবা ভাতে গন্ধ অথবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নারও কোন অভিযোগ করতে শোনা যায়নি শিক্ষার্থীদের।

অন্যদিকে দেশের বাইরের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খাওয়ার খরচও কম। মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জানায়, মাত্র ১ সৌদি মুদ্রায় বা বাংলাদেশি ২২ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রদের দুপুরের খাবার দেওয়া হয়। তাও বুফে ধরনের, যেখানে কয়েক রকম খাবারের আইটেম থাকে।

ইসলামী খেলাফতকালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কোন খরচ ছিলনা। রাষ্ট্র বহন করত থাকা-খাওয়ার সমস্ত খরচ। দিত উচ্চহারে বৃত্তি। বৃত্তি ছিল সব ছাত্রের জন্যই। কোনও কোনও কালে এর পরিমাণ ছিল এত বেশি যে, ঐ দিয়ে বিয়ে শাদি করে পরিবারের ভরণ-পোষণ করাও সম্ভব ছিল। ইংরেজরা এই এদেশের বুকে থাবা বসাবার আগে, এ দেশের শিক্ষা ছিল মাদ্রাসা নির্ভর। এই মাটি তো সেই মাটি, যে মাটির এক পঞ্চমাংশই ছিল মাদ্রাসার জন্য ওয়াকফ করা। সেই ওয়াকফ সম্পত্তিই ব্রিটিশরা লা-খেরাজ বা নিষ্কর সম্পদ হিসেবে অধিগ্রহণ করে। ১৮২২ থেকে ১৮৪০ পর্যন্ত ১৮ বছরে ইংরেজরা মাদ্রাসাগুলো থেকে এসব জমি কেড়ে নেয়। তারপরও ঐতিহ্যগতভাবে এদেশের মানুষের জ্ঞানার্জনের পথ সুগম করতে এবং প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মাদ্রাসাগুলো তাদের খাবার খরচ রেখেছে অত্যন্ত কম।